ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার পূর্ব মানরাজ ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সামরাজ এলাকায় অবস্থিত ‘সামরাজ ক্রাউন ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটায় অবৈধভাবে বনজ ও ফলদ গাছ পুড়িয়ে ইট উৎপাদনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত আইন অমান্য করে কৃষিজমি ও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভাটার চারপাশে বিপুল পরিমাণ কাঠ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ট্রাকযোগে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছ কেটে এনে ভাটার ভেতরে করাতকলের মাধ্যমে টুকরো করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন কয়েক মণ কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। এতে চুল্লি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে আশপাশের সবুজ মাঠ, বনজ ও ফলদ গাছ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, ক্রাউন ইট ভাটায় শুরু থেকেই কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এবং মালিকপক্ষের নির্দেশেই এ কার্যক্রম চলছে।
লারকি (কাঠ) দিয়ে ইট পোড়ানোর অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় ক্রাউন ব্রিকফিল্ডের মালিক মোঃ রাছেল সাংবাদিকদের কে বলেন, “ওই ক্রাউন ব্রিকফিল্ডটি আমার ছোট ভাইসহ চারজনের মালিকানাধীন, আমি নিজে মালিক নই। এছাড়া শুধু আমাদের ভাটা নয়, চরফ্যাশন উপজেলায় আরও অনেক ইট ভাটায় লারকি দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে।”
এদিকে, স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে গাছ পোড়ানো হলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এতে পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে এবং কৃষিজমি ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ক্রাউন ব্রিকফিল্ডের ম্যানেজার মোঃ বাচ্চুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভোলা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ তোতা মিয়া জানান, “জিগজ্যাগ ভাটার নামে লারকি দিয়ে ইট পোড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। গত বছর পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা করেছে। এ বছরও যদি এ ধরনের অনিয়ম পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”