মোঃ জিয়াউদ্দিন, দৌলতখান প্রতিনিধি।।
ভোলার লালমোহন উপজেলায় মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া পুলিশ সদস্য ফখরুল ইসলামের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যার কিছু আগে দৌলতখান উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের বটতলা সংলগ্ন এলাকায় নদীতে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে তা উদ্ধার করা হয়।
এর আগে, গত বুধবার সন্ধ্যায় ইলিশ শিকারের দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে উপজেলার মঙ্গল শিকদার এলাকায় মেঘনা নদীতে অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে একটি স্পিডবোট দুর্ঘটনার শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তীব্র স্রোতের কারণে একটি লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে স্পিডবোটটি উল্টে গেলে কনস্টেবল ফখরুল ইসলাম নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।
ঘটনার পরপরই নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা দুই দিন অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ সময় মেঘনার তীরে অবস্থান নেয় তার পরিবার; স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
নিখোঁজ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা শেষ পর্যন্ত আশার কথা জানালেও মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। দৌলতখান থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষে এটি নিখোঁজ পুলিশ সদস্য ফখরুল ইসলামের বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
উদ্ধার কাজে সংশ্লিষ্টরা জানান, মেঘনা নদীর প্রবল স্রোত ও গভীরতার কারণে অভিযান পরিচালনায় বেগ পেতে হয়েছে। তবুও সম্ভাব্য সব স্থানে তল্লাশি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুলিশ সুপার বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। শুরু থেকেই উদ্ধার অভিযান জোরদার রাখা হয়েছিল।”
এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও স্বজনরা।