
ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে একই ব্যক্তির ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষায় দুইবার ভিন্ন ফলাফল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ৯-এর ভোলা জেলা প্রতিনিধি অনিক আহাম্মেদের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভোলা সদর রোডের পাঁচ তহবিল সড়কে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানো হয়।
২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর করা পরীক্ষায় তার ব্লাড গ্রুপ ‘বি পজিটিভ’ উল্লেখ করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত প্রস্তুত রাখার কথা বলা হলেও তখন তা প্রয়োগের প্রয়োজন হয়নি।
পরবর্তীতে আবার চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পুনরায় একই স্থানে ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়। এ সময় রিপোর্টে ‘এ পজিটিভ’ উল্লেখ করা হয়। একই ব্যক্তির দুইবার দুই ধরনের ব্লাড গ্রুপ রিপোর্ট আসায় পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন মানুষের ব্লাড গ্রুপ সাধারণত পরিবর্তন হয় না। তাই এ ধরনের ভিন্নতা ল্যাবরেটরির ত্রুটি, নমুনা অদলবদল বা রিপোর্ট তৈরিতে অবহেলার ফল হতে পারে। ভুল ব্লাড গ্রুপ অনুযায়ী রক্ত সঞ্চালন করা হলে তা রোগীর জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
ভুক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত ও তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবার মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে ভোলা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হাফিজুর রহমান বলেন, “বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। এটি আমাদের ভুল নাকি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে—তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে ভোলার বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সেবার মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর তদারকি জোরদারের দাবি উঠেছে।
