সাইফুল ইসলাম সানি, স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলা সদর উপজেলার পাতাবুনিয়া ও বাঘমারা চরের শত শত ভূমিহীন কৃষকদের চাষকৃত এবং বসবাসরত বাড়ি ঘর দিন দিন বিলিন হয়ে যাচ্ছে। অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের কারণে, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের সময়ে চিহ্নিত প্রভাবশালীর সহায়তায় একটি ভূমিদস্যু মহল নিরীহ সাধারণ ভূমিহীন কৃষকদের জমি থেকে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে উৎখাত করে জমি জোর পূর্বক দখল করে নিরীহ কৃষকদের সৃজিত ধান্য লুটপাট করে নেয়।
অসহায় পরিবার গুলো আইনি আশ্রয়ে যেয়েও ফ্যাসিষ্ট বাহিনীর অত্যাচার এবং দাপটে সীমাহীন দূর্ভোগের মাধ্যমে মানবেতর জীবন যাপন করে। ফ্যাসিষ্ট সরকার উৎখাতের পর নিজেদের জমি চাষাবাদের প্রক্রিয়ায় চলে আসলে বর্তমানে একটি বালু খেকো মহল নদীতে ৭/৮ টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মেক্টিক টন বালু উত্তোলন করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে কমে আসছে, দ্বীপ জেলা ভোলার আয়তন।
সোমবার (১১ আগস্ট) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসক এর কার্যলয়ের সামনে ভূমিহীন কৃষকেরা মানববন্ধন করেন, পরে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রধান করেন।
স্থানীয়রা বলেন, আমরা বাঘমারা চরের নিরিহ কৃষক আমাদের জমি চাষাবাদে বাধা প্রদান করছে, এবং জমি চাষাবাদ করলে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়। যার ফলে সরকার কর্তৃক বন্দোবস্তকৃত আমরা ভূমিহীন হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। অবৈধ ভাবে বালু কাটার ফলে আমাদের চাষকৃত জমি গুলো পূনরায় নদী গর্ভে বিলীন হবার পথে।
বিগত ১৭ বছর ধরে ভোলা সদর-সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করে আসছে স্বৈরাচারী সরকারের মদদপুষ্ট কিছু লোক। একই ভাবে বর্তমান সময়ের কিছু প্রভাবশালী বালু খেকো ভূমি দস্যু নিরীহ চাষাদের চর কেটে বালু উত্তোলন করতে করতে ইতিমধ্যে কয়েকটি চর বিলিন হয়ে গেছে। এবং বর্তমানে পাতাবুনিয়া ও বাঘমারা চর বিলিন হবার পথে। অসাধু বালুদস্যুরা প্রতিদিন ৬০/৭০ লক্ষ টাকার বালু বিক্রি করে অবৈধ টাকার পাহাড় গড়ছে। এই ভাবে চরগুলো থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভূমিহীন মানুষের পূর্ব পুরুষের নদীতে ভেঙ্গে যাওয়া জমি পুনরায় জাগতে পারছে না। নতুন বসতি গড়ে উঠতে পারছে না নতুন চরে। ফলে দিন দিন এলাকার দারিদ্র্যতা বাড়ছে।
সমগ্র ভোলায় এখন পর্যন্ত ৯ টি গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে আরো গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এভাবে চর গুলো বিলিন হয়ে গেলে জনগণের জানমালের ক্ষতি ছাড়াও নতুন গ্যাস কূপের সন্ধান পাওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়বে। পতিত স্বৈরাচারী সরকারের পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসী এবং বর্তমান সময়ের প্রভাবশালী মদদপুষ্ট বালু এবং ভূমি দস্যুরা অবৈধ ভাবে ভূমি দখল এবং বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি অবৈধ অর্থের মালিক হয়ে দেশের টাকা বিদেশে পাচারে ব্যাস্ত হয়ে পরেছে।
উল্লেখ্য: ভোলা শহরের ডিসি অফিস, এসপি অফিস, থানা, সিভিল সার্জন অফিস-সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভাঙ্গন কবলিত এলাকা থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। এই গুরুত্বপূর্ণ অফিস-সহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো এতোটা হুমকি ও বিপজ্জনক অবস্থানে থাকলেও কোনো সরকারি মহলের বিন্দু মাত্র ভ্রুক্ষেপ নেই তা সত্যই বিস্ময়কর ব্যাপার। এখানে উল্লেখ: ভোলা সফল জেলা প্রশাসকের, তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপে জুলাইয়ে প্রথম সপ্তাহে পাতাবুনিয়া চর এলাকা থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনরত অবস্থায় ২জনকে আটক করে এক লক্ষ টাকা অর্থ দন্ড-সহ চারটি ড্রেজার মেশিন আটক করা হলেও ১০ দিনের মাথায় অদৃশ্য প্রভাবশালী বালু দস্যু ও ভূমি দস্যুদের কালো হাতের ছোঁয়ায় ড্রেজার মেশিন গুলো ছাড়িয়ে নিয়ে পুনরায় ওই চারটি ড্রেজার মেশিন-সহ আরো ৪/৫ টি মেশিন সংযোগ করে বর্তমানে প্রতিনিয়ত দিনরাত বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে। ফলে দিন দিন কমে আসছে দ্বীপ জেলা নামে ক্ষ্যত ভোলার মানচিত্র।
