লালমেোহন প্রতিনিধি:
ভোলার লালমোহন হাসপাতালের ভিতরে ও আশপাশে প্রতিনিয়ত ফেলা হচ্ছে খাবারের উচ্ছিষ্টসহ নানা আবর্জনা। দীর্ঘ দিন ফেলে রাখা এসব আবর্জনা যেন ময়লার কারখানা হিসাবে পরিণত হয়েছে। তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তার সাথে রয়েছে ডাক্তার সংকট, সব মিলিয়ে বর্তমানে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই রোগী হিসাবে পরিনত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় সরজমিনে হাসপাতাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সবখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা আর নোংরা পরিবেশে হাসপাতাল যেন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে হাসপাতালের নতুন ২য় তলার সিড়ির সামনেই, ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ময়লা-আবর্জনা। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকাসহ সচেতনতার অভাবে সেখানে প্রতিনিয়ত খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলছেন রোগীর স্বজনরা।
ভবনের ৩য় তলায় রয়েছে প্রত্যেক সিটের নিচে রয়েছে এমন ময়লার দৃশ্য।
গত ৩ দিন আগের ময়লা রয়েছে, ফলে দূর্গন্ধের সহ্য করা কষ্টদায়ক রোগী এবং স্বজদের।
দীর্ঘ দিনেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ রোগী এবং তাহার স্বজনরা।
লালমোহন সদর ইউনিয়ন থেকে রোগী নিয়ে আসা মারুফ বলেন, এখানকার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। সবদিকেই দেখবেন শুধু ময়লা আবর্জনার স্তূপ, এ কারণে কোনো আবর্জনার স্তূপ পঁচে সেখান থেকে তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে।
নতুন রোগীর নিয়ে আসা, বদরপুর ইউনিয়ন থেকে, সাবিকুন নাহার এবং বিবি ফাতেমা বলেন, কাল রাতেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আসেই দেখি পাত্রে ময়লা রয়েছে আর দুর্গন্ধন ছড়াচ্ছে, খুব কষ্ট হচ্ছে।
আর কোন ডাক্তার এখনো আসেনি হাসপাতালে রোগী নিয়ে এসে, আমি নিজেই এখন রোগী হয়েছি।
চরভূতা ইউনিয়নের থেকে রোগী হয়ে আসা, আবু কালাম, মোর্শেদ, সবুজ, বলেন চারপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। এখান থেকে রোগ-জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বেডে থাকা রোগীরা বাইরে থেকে আসা দুর্গন্ধে অস্বস্তিতে থাকেন। সবার জন্যই এই পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর পঃ পঃ কর্মকর্তা ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, আমার হাসপাতালে ৪ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মচারী রয়েছে, এর মধ্যে ৩ জনই অসুস্থ, তাই একটু সমস্যা হচ্ছে, আশা করছি খুব কম সময়েই এর সমাধান হয়ে যাবে। পরিছন্নতা কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া আছে যে হাসপাতালের ওয়ার্ড সার্বক্ষণিক পরিষ্কার থাকবে। ভিতরে কোথাও ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকার কথা নয়। তারপরও যদি নির্দিষ্ট স্থানে ছাড়া কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকে, তা মনিটরিং করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
