
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
অকাল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ভোলার সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি প্লাবিত হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক জমিতে কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকায় ধান, মরিচ, তরমুজসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শতাধিক একর জমির ফসল পানির নিচে চলে যায়। কৃষকরা জানান, হঠাৎ করে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
কৃষক মো. আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, “অন্যের জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করি। কিন্তু অকাল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সব ফসল তলিয়ে গেছে। এখন ঋণের টাকা পরিশোধ করা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।” একই এলাকার আরেক কৃষক জানান, জমিতে পানি নেমে না গেলে পুরো মৌসুমটাই ক্ষতির মধ্যে পড়বে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন ও কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান জানান, অকাল বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির কারণে উপজেলার কিছু এলাকায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা চূড়ান্ত হলে সরকারিভাবে সহায়তা প্রদানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় চরসামাইয়ার কৃষকদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
