
ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ১নং ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত ‘সততা ব্রিকস’ নামের একটি ইটভাটার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সয়ামিল বসিয়ে বনজ ও ফলদ গাছ কেটে লারকি তৈরি করে ইট পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন সংক্রান্ত আইন অমান্য করে কৃষিজমি ও পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় ভাটাটি স্থাপন করা হয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ভাটার চারপাশে বিপুল পরিমাণ কাঠ ও লারকি স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ট্রাকযোগে বিভিন্ন স্থান থেকে গাছ কেটে এনে ভাটার ভেতরে স্থাপিত সয়ামিলে তা টুকরো করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন কয়েক মণ কাঠ ও লারকি পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে।
এতে চুল্লির কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালিতে আশপাশের সবুজ মাঠ, বনজ ও ফলদ গাছসহ বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক জানান, শুরু থেকেই এই ভাটায় কাঠ ও লারকি দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে এবং মালিকের নির্দেশেই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে সততা ব্রিকসের মালিক মোঃ আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, তাদের ব্রিকফিল্ড মেহেন্দিগঞ্জ এলাকায় এবং কয়লার উচ্চমূল্যের কারণে লারকি ব্যবহার করা হচ্ছে।
একটি বিশেষ সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনিক নজরদারি এড়াতে ভাটার অবস্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভোলা থেকে গেলে মালিক দাবি করেন এটি মেহেন্দিগঞ্জের ভেতরে, আবার মেহেন্দিগঞ্জ থেকে গেলে বলেন ভোলা সদর উপজেলার মধ্যে পড়েছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন, জিগজ্যাগ প্রযুক্তির ইটভাটায় লারকি দিয়ে ইট পোড়ানোর সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ তোতা মিয়া জানান, জিগজ্যাগ প্রযুক্তির নামে লারকি ব্যবহার সম্পূর্ণ অবৈধ। এবছর আমরা ৫ দিন মোবাইল কোট পরিচালনা করে মোট ১৩ টি ইটভাটায় মোট ৩০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছি। এবং বাকি ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
