
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলার তজুমদ্দিনের দুর্গম চরে মা ও শিশু কন্যাকে ৪ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রকাশ্যে এসেছে অভিযুক্তের ভাইয়ের পিস্তল হাতে থাকা এক চাঞ্চল্যকর ছবি। এই ছবি প্রকাশের পর পুরো জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ অস্ত্রের জোরেই মেঘনা নদী ও চর মোজাম্মেল এলাকায় দিনের পর দিন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল এই অপরাধী চক্র।
প্রতিবেদকের হাতে আসা ছবিতে দেখা যায়, চরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নীরবের ছোট ভাই দুলাল ফরাজী একটি পিস্তল হাতে নিয়ে বসে আছেন। তার পাশেই বসে আছেন আরও একজন। স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, এই নিরব ফরাজী ও তার ভাইদের নেতৃত্বে চরে একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হতো। মেঘনা নদী ও চর মোজাম্মেল কেন্দ্রিক নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি এবং ত্রাস সৃষ্টি করাই ছিল তাদের প্রধান কাজ। অবৈধ অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পেত না।
অস্ত্রধারী এই চক্রের নৃশংসতার শিকার হওয়া এক নারী সম্প্রতি তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালে ওই নারী, তার দুই কন্যা ও বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। চরমোজাম্মেল এলাকার ‘ভুট্টু নেতার ব্লকে’ টানা চার দিন তাদের আটকে রাখা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতি রাতে নীরব ও তার সহযোগীরা তাকে এবং তার শিশু কন্যাকে আলাদা কক্ষে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হতো।
পরবর্তীতে প্রশাসনের সহায়তায় তারা উদ্ধার হলেও প্রভাবশালীদের চাপে মামলাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়। এর প্রতিবাদ করায় ২০২২ সালে ওই নারীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও গবাদিপশু লুট করে তাকে সপরিবারে চর থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
এই বর্বরোচিত ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরায় পরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল সন্ত্রাসের শিকার হয়েছেন তজুমদ্দিন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাদির হোসেন রাহিম। অভিযোগ উঠেছে, অভিযুক্ত নীরবের ভাই আলাউদ্দিন ফরাজীর নেতৃত্বে একটি কিশোরগ্যাং চক্র সাংবাদিক রাহিমের ছবি বিকৃত করে এবং কুরুচিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে সাইবার হামলা চালাচ্ছে। সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতেই এই অপকৌশল বেছে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
প্রধান অভিযুক্ত নীরব তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করলেও প্রকাশ্যে আসা পিস্তল হাতে তার ভাইয়ের ছবি নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, বিষয়গুলো পুলিশ গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে অবৈধ অস্ত্রধারী ও ধর্ষকদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তজুমদ্দিনের সাধারণ মানুষ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
